সৌল মাউনটেন - চ্যাপ্টার ৫
এই অনুচ্ছেদটি 'সোল মাউন্টেন' (Soul Mountain) বইয়ের পঞ্চম অধ্যায় থেকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রধান চরিত্র একজন অপরিচিত মহিলার সাথে একটি আকস্মিক সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। এই মহিলা খুব স্বল্প সময়ের জন্য তাঁর সঙ্গী হন এবং তারপর চলে যান। নির্জন নদীর ধারের প্যাভিলিয়ন থেকে শুরু করে গল্পকারের থিয়েটার এবং তারপর শান্ত রাস্তায় ফিরে আসা—এই দুজন যেন একে অপরের সঙ্গের তীব্র অভাব মেটাতে একসাথে মিশে যান। নায়ক ফল-এর দোকানে সেই তরুণীর প্রতি আকৃষ্ট হন এবং তার কাছে এগিয়ে যান। মেয়েটি এই পদক্ষেপ মেনে নেয় এবং কিছুক্ষণের জন্য তারা একসাথে আনন্দময় কিছু মুহূর্ত কাটায়। তারা "চ্যান ফাতং" (Chán Fǎtōng) অর্থাৎ 'বুদ্ধের আইন উপলব্ধি করা' নামক একটি কৌতূহলোদ্দীপক গল্প শোনে। তবে, হঠাৎ করেই মহিলা ভিড়ের মধ্য থেকে সরে যান, যেন তাঁর আনন্দ অন্যের নজরে পড়ার কারণে ভেঙে গেছে। মনে হয় তিনি উপলব্ধি করেছেন যে এই সুখ ক্ষণস্থায়ী এবং এর মধ্যে দুর্বলতা নিহিত। অধ্যায়ের শেষে দেখা যায়, তিনি কিছুটা পথ খোলা বাতাসে হেঁটে গিয়ে আবার ফিরে আসেন এবং তারপর দূরে চলে যান।
গল্পের দার্শনিক মূল্যায়ন
এই সংক্ষিপ্ত অংশটি মানব সংযোগ, স্বকীয়তা এবং বাস্তবতার প্রকৃতি সম্পর্কে একটি দার্শনিক বিবৃতি। এটি অস্তিত্ববাদের বেশ কয়েকটি মূল নীতিকে ধারণ করে, যা গাও জিংজিয়ানের (Gao Xingjian) লেখার কেন্দ্রবিন্দু।
'সোল মাউন্টেন'-এ প্রধান চরিত্রের যাত্রা হলো প্রথাগত মূল্যবোধ থেকে বঞ্চিত একটি পৃথিবীতে অর্থ খুঁজে বের করা এবং নিজের একটি স্বকীয় সত্তা তৈরি করার চেষ্টা। এই অপরিচিত মহিলার সাথে এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ সেই যাত্রার একটি ক্ষণস্থায়ী বিরতি, একটি ক্ষণস্থায়ী, বোঝা-মুক্ত অবকাশ। চরিত্রদের এই অপরিচিততা বোঝায় যে মানুষের মধ্যে সংযোগ প্রায়শই ক্ষণস্থায়ী এবং একটি গভীর, দীর্ঘস্থায়ী বন্ধনের পরিবর্তে একটি ক্ষণস্থায়ী, ভাগ করে নেওয়া প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। "নির্জন প্রাকৃতিক দৃশ্যে" তাদের একসাথে থাকা তাদের অস্তিত্বের একাকীত্ব এবং সাময়িক সান্ত্বনা খোঁজার আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরে।
"পর্যবেক্ষিত হওয়ার" অস্বকীয়তা
এই অধ্যায়ে সূক্ষ্মভাবে "পর্যবেক্ষিত হওয়ার" অস্বকীয়তা (inauthenticity) উপস্থাপন করা হয়েছে। মহিলার হঠাৎ চলে যাওয়া এই অনুচ্ছেদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক ঘটনা। তাঁর আনন্দ নায়কের দ্বারা নষ্ট হয়নি, বরং অন্য মানুষের দৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়েছে। এই মুহূর্তটি জঁ-পল সার্ত্রের (Jean-Paul Sartre) "লে রেগার্ড" (le regard) বা "দৃষ্টি" ধারণার প্রত্যক্ষ প্রতিফলন। সার্ত্র যুক্তি দেন যে যখন আমরা বুঝতে পারি যে আমরা অন্য কারও দ্বারা পর্যবেক্ষীত হচ্ছি, তখন আমরা আমাদের নিজেদের বাস্তবতার কর্তা (subject) হওয়া বন্ধ করে দেই এবং তাদের বাস্তবতার একটি বস্তুতে (object) রূপান্তরিত হই। যখন মেয়েটি বুঝতে পারে যে ভিড় তাকে দেখছে এবং বিচার করছে, তখন তার বিশুদ্ধ, আত্মগত আনন্দ ভেঙে যায়। তার ব্যক্তিগত মুহূর্তটি জনসাধারণের হয়ে যায় এবং এর স্বকীয়তা (authenticity) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার আনন্দের স্বতঃস্ফূর্ততা আত্ম-সচেতনতা এবং বাহ্যিক ধারণার দ্বারা সংজ্ঞায়িত হওয়ার অনুভূতির কাছে আত্মসমর্পণ করে। সে তার স্বাধীনতা এবং তার আত্মগত অস্তিত্বের স্বকীয়তা ফিরে পেতে পালিয়ে যায়, যেখানে সে কেবল একটি বস্তু নয়, বরং একজন ব্যক্তি।
গল্প এবং বাস্তবতা
চ্যান ফাতং-এর গল্পটি একটি কাল্পনিক, নৈতিক জগতে সাময়িক পালানোর সুযোগ করে দেয়। একটি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য, এই দম্পতি একটি সাধারণ আখ্যান, অর্থাৎ জাগতিক বাস্তবতার থেকে আলাদা একটি ভাগ করা বাস্তবতা ভাগ করে নেয়। তবে, বাস্তব জগতের অনুপ্রবেশ—যা পর্যবেক্ষক ভিড় দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করা হয়েছে—তা অবিলম্বে এই বিভ্রমকে ভেঙে দেয়। গল্পের নির্মিত জগতের সাথে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের বিশৃঙ্খল, প্রায়শই বেদনাদায়ক বাস্তবতার এই বৈপরীত্য উপন্যাসটির একটি পুনরাবৃত্ত থিম। মহিলার চলে যাওয়া এই ইঙ্গিত দেয় যে গল্প সাময়িক আরাম দিতে পারলেও, তারা অস্তিত্বের কঠোর বাস্তবতার বিরুদ্ধে আমাদের ধরে রাখতে পারে না।
Comments
Post a Comment